বিস্ময়পুর ভ্রমণ পত্রিকা

'সাদা ক্যানভাসের পর্দা দুলিয়ে / ঢুকে এলো কালোসবুজ অরণ্যমানবী।'... দেবাঞ্জলি মুখোপাধ্যায়

Featured Post

বিস্ময়পুর ভ্রমণ পত্রিকা

বনবাংলোয় সবুজ বৃষ্টিতে

এই ফরেস্ট রেঞ্জ এত বিপুল সম্ভারে ধনী, যতবারই যাই না কেন সে নতুন নতুন রূপে ধরা দ্যায়। কয়েকটা বন্য শুয়োর ঘোঁত ঘোঁত তাদের পৃথুল শরীর নিয়ে হেলেদুলে চলে গেল। আর তারপরই সেই কাণ্ড, যা ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক চ্যানেলেই একমাত্র দেখেছি। জলদাপাড়া রেঞ্জের বিখ্যাত একশৃঙ্গ গণ্ডারের দল আচমকাই এসে হাজির সেই সল্টলিকে। দলে একটা মা গণ্ডার, সঙ্গে তার প্রায় সদ্যজাত সন্তান। এমন সময় আরেকটা গণ্ডার সেই মা গণ্ডারটাকে অতর্কিতে আক্রমণ করে বসল। ঠিক মানুষের সমাজের মতোই, বাকিরা সরে পড়ল যে যার মতন। এদিকে দুটো গণ্ডার ফুঁসে ফুঁসে উঠছে, কিছুটা পিছিয়ে গিয়ে আবার তেড়ে আসছে, খড়্গ দিয়ে গুঁতো মারছে প্রবল, দুজনেই ক্ষতবিক্ষত, সার্চলাইটের ঐ তীব্র আলোকেও তারা পরোয়া করছে না, একসময় মনে হল ওরা যে কোনও মুহূর্তে নদী পেরিয়ে ধেয়ে আসতে পারে আমাদের দিকেও। সবাই দমবন্ধ করে দেখছে, এমনকী বাচ্চাগুলোও দুষ্টুমি ভুলে সব স্ট্যাচু হয়ে গ্যাছে।

Related posts

বিস্ময়পুর ভ্রমণ পত্রিকা

পাহাড়কণিকা কণাহিমালয় (ভূতলস্বর্গের কানাচ আর মরুপাহাড়ের আলসে থেকে)

স্বর্গ আর কাকে বলে! আর এরই মাঝখানে আমরা, আমাদের মত আরও কিছু মানুষ, বিস্ময় বিহ্বলতায় আবেশিত। কোত্থেকে আসছে ঠিকানা নেই, কোথায় ফিরে যাবে নেই সেই হদিশ। সব ঠিকানা যেন এসে মিশেছে এই পরিবেশে এই পরিমণ্ডলে। উচ্ছল হয়ে পড়ায় কোনও বাধা নেই। আবার শান্ত হয়ে মেডিটেশনে বসে পড়ারও সমস্ত রসদ মজুত। জুগনু আজ একটু বেশিই আত্মভোলা হয়ে পড়েছে। ক্যামেরার সামনে নানা ভঙ্গিমায় পোজ দিয়ে যাচ্ছে। নাচছে, হাসছে, দুবাহু প্রসারিত করে গান গেয়ে উঠছে। প্রনবদা, চঞ্চল, কিছুটা অস্থির, সমস্ত জায়গাটা খুব কাছ থেকে ঢুঁরে ফেলছে, আর ক্যামেরাবন্দী করছে সসীম কে, বুঝিবা অসীমকেও সে নিয়ে আসবে কোনও এক ফ্রেমে। আমি আর ধীমান যতটা পারলাম জায়গাটাকে চষে ফেললাম। আর পরস্পরকে ডেকে ডেকে দেখালাম, এটা দেখ, ওটা দেখ। বহু বহুদিন পর অনেকক্ষণ শিশু হয়ে রইলাম। বিস্ময়, মুগ্ধতা নিয়ে শিশু হয়েই থাকতে ভালো লাগছিল যেন।

Read More

গির অরণ্যকথা

বিশ্বাস করি প্রকৃতির নিবিড় সংস্পর্শ মানুষের হৃদয়কে প্রসারতি করে। প্রতিবার ভ্রমণে গিয়ে এক নতুন আমি হয়ে ফিরে আসি। অন্যান্য জঙ্গল ভ্রমণে গিয়ে তেমন পশুপাখি না দেখতে পাওয়ার বেদনা ভুলিয়ে দিল এই ভ্রমণ। ঝুলি ভরে নিয়ে এলাম অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা… সারা বছরের অক্সিজেন… বুনো গন্ধ… পাখির কলতান… সিংহের গর্জন … সিংহ শাবকদুটির চোখের মায়া…

Read More

বীরাপ্পনের জঙ্গল ও মধুমালাইয়ের জঙ্গলে একদিন

বীরাপ্পন! নামটা শুনেই যেন থমকে গেলাম সকলে। আমার বাবা একটু ভিতু মানুষ, মিনমিন করে বলে উঠলেন, অন্য রাস্তা-টাস্তা নেই উটি যাওয়ার? স্বভাবতই ভোলেদাদা, এই শুদ্ধ বাংলার একবর্ণও বুঝতে না পেরে নির্দিষ্ট একটা দোকানের সামনে গাড়ি দাঁড় করালে আমরা বাবার কথাকে একেবারে পাত্তা না দিয়ে ব্রেকফাস্ট সেরে নিলাম। আবার বোলেরোটা চলতে শুরু করল। ডুয়ার্স আমাদের বাড়ির কাছেই, এক আধবেলা ছুটি ছাটা পেলেও আমরা ডুয়ার্সে দৌড়াই। গরুমারা, লাটাগুড়ি, চিলাপাতা এসব দেখে আমাদের বড় হওয়া। তাই বন্দিপুর আর মধুমালাই নিয়ে যে আলাদা কোনো উত্তেজনা ছিল তা নয়, তবে বীরাপ্পনের নামটা শুনে শরীরের রোম খাঁড়া হয়ে যায়নি তা বলব না।

Read More

রাকাব জঙ্গল ভ্রমণ

আরও শোন, সাঁওতালি ভাষায় ‘রাকাব’ শব্দের অর্থ ‘ওঠানো’ বা ‘তাড়ানো’। সময়টা ১৮৫৭। উত্তাল হয়ে উঠেছে ব্যারাকপুর সহ গোটা দেশ। প্রথম স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন কেউ কেউ। সেই আগুনের আঁচ এসে পড়েছিল এই অজ দেশেও। ব্রিটিশ শাসনের অত্যাচার আর মুখ বুজে সহ্য করবেন না,এই ছিল তদানীন্তন কেশরগড়-রাকাব অঞ্চলের সাঁওতাল কৃষক ও জনজাতির মানুষের জেদ। কেশরগড়ের মহারাজা গরুড়নারায়ণ সিংদেওয়ের বীরপুত্র নীলমণি সিংদেওয়ের আহ্বানে রাকাবের প্রায় দশহাজারের মতো সাঁওতাল জড়ো হয়েছিলেন রাকাব জঙ্গলে। রাকাব বুড়িকে সাক্ষী রেখে তারা শপথ নিয়েছিলেন এ দেশ থেকে ব্রিটিশ সূর্যকে চিরদিনের মতো অস্তাচলে পাঠিয়ে দেওয়ার।

Read More

সবুজ বনে অন্য মনে

শিরিষ গামার সেগুনের ঘন সবুজ । দরজা দিয়ে বেরিয়ে কাঠের রেলিং দেওয়া বারান্দা । কাঠের সিঁড়ী নেমে গেছে উঁচু নিচু ঘাসজমিতে । দুপুরের খাবার যত্ন করে পরিবেশন করা হল । বিকেলে গেলাম মূর্তি নদীর ধারে মেদলা ওয়াচ টাওয়ারে । অন্যান্য পর্যটক যারা এখানে রাত্রিবাস করেন না তাদের মোষের গাড়ীতে আসতে হয় । নদীতে জল খেতে আসে বাইসন, চিত্রল অথবা সম্বর , গাউর , হাতি । ঘাসের আড়ালে থাকে গণ্ডার । পীঠের উপর বসে থাকে সাদা কোরচে বক । শেষ বিকেল পর্যন্ত বেশ কিছু পর্যটক ছিল । পরে আস্তে আস্তে ফাঁকা হয়ে গেলেও আমরা রয়ে গেলাম । ফেরার তো তাড়া ছিল না । পড়ন্ত বিকেলের কমলা আলোটা ফিকে হয়ে আসছিল । চারপাশের জঙ্গলে অন্ধকার নেমেছে । সামনের ঘাস বনে তখনো হাল্কা আলো । ঝি ঝি পোকার ডাক বাড়ছে ।

Read More

কালজানি অথবা নিতান্ত একটা ভ্রমণ

সেদিন ভাল থেকে খারাপের দিকে গেছিলাম আজ খারাপ থেকে ভালর দিকে যাচ্ছি। মন ছোটার মত ঝরা পাতারা সড়সড় উড়বে চাকার পিছুপিছু। বর্ষায় জঙ্গল তো এক রকমের, আসলে সবকটা ঋতুতেই জঙ্গল তার চরিত্র পরিবর্তন করে। শুধু তাই নয়, প্রতিদিনের দিন, রাত্রির জ্যোৎস্না বা অন্ধকারের প্রতিটা মুহূর্তেই সে নিজেকে পরিবর্তন করে। পর্ণমোচী অরণ্যেরও তো এক রূপ আছে। জানা নামের গাছেদের মধ্যে শিমূল, শিমূল ফুটলে তার পাতারা ঝরে যায়। আর তুলো উড়িয়ে দিয়ে সব্বার আগে তার শাখায় শাখায় জাগিয়ে তোলে সবুজ। পাশাপাশি মরার মত শাল, সেগুন, খয়ের, অর্জুন, মেহগিনিরা কী চেয়ে তাদের লম্বা লম্বা হাতগুলো ছড়িয়ে রেখেছে আকাশের দিকে! এরকম বৈসাদৃশ্যও তখন একটা দৃশ্য হয়ে ওঠে! জাড়ুলের সব পাতা একবারে ঝরে যায় না। সামনে দুই মাস, তারপরেই তো জাড়ুলের মাস তাই তার শাখায় শাখায় প্রস্তুতি চলছে পুরোদমে। প্রতিটা শাখায় শাখায় চকচকে নতুন সবুজ আর সেই শাখাগুলোর শেষের দিকে ধুলো মাখা বৃদ্ধ পুরু পাতারা হলুদ হয়ে এসেছে।  

Read More

প্রিয় সিমলিপাল

রাত তখন কটা হবে জানতাম না বা এখন মনেও পড়ছে না। তবে ঘুমের গভীরতা বেশ। একটা ঝুম ঝুম শব্দ থেমে থেমে ভেসে আসছে স্বপ্নে কে যেন আমায় বহুদূর থেকে ডেকে যাচ্ছে – সুপ্রিয়...সু...প...রি...য়...অনেক্ষন ধরেই সে ডাক। আস্তে আস্তে ঘুম ভাঙছে যত, তত গভীর হচ্ছে শব্দের কম্পাঙ্ক। বেশ অনেকটা সময় লেগে গেল এটা বুঝতে যে ডাকটা আসছে উল্টোদিকের বেডে পার্থর কাছ থেকে। পার্থ আমায় ডাকছে। অল্প আলোয় চোখ সইতে সময় লাগল, দেখি পার্থ, ওর বিছানায় কম্বল মুড়ি দিয়ে অর্ধেক উঠে বসে তখনও আমায় ডাকছে ধীর গলায়। শুনেছিস? আমি শুয়ে শুয়েই একটু কুঁকড়ে গেছি, হ্যাঁ, অনেকক্ষণ ধরেই শুনছি। ঐ তো আবার, আবার হচ্ছে। ঝুম ঝুম...ঝুম ঝুম। থেমে গেল। আবার। থামছে আবার হচ্ছে। যেন কেউ হেঁটে বেড়াচ্ছে, দাঁড়াচ্ছে। শব্দটা শুনেই প্রথম আমার যেটা মাথায় এলো, না কোন ভূত প্রেত নয়, কারন তখন আমি ঘোরতর ঘোষিত নাস্তিক (যদিও ভয় টয় হেব্বি পাই), প্রথমেই অ্যানিমাল প্ল্যানেটে দেখা র‍্যাটেল স্নেকের কথা মনে পড়ল। সাপটা চলার সময় লেজের পিছনের অংশে যেমন শব্দ হয়, এই শব্দটাও সেরকম মনে হচ্ছিল। বেশ ঘাবড়ে গেলাম।

Read More

গুলমার বিস্ময়

বাইকের আওয়াজ ক্ষীণ হয়ে মিলিয়ে গেলো। চরাচরে দুটি প্রাণী আমরা আর অনন্ত জঙ্গল। থমথমে হাওয়া। সামনে-পিছনে, ডাঁয়ে-বাঁয়ে, ওপর-নিচে শুধু চুম্বক। রহস্য, রোমাঞ্চে ভরপুর! আমাদের টানছে। সম্মোহিতের মতো দু’জন দু’জনের হাত ধরে গভীর জঙ্গলে পা বাড়ালাম। স্তব্ধতা গ্রাস করলো। পথহীন পথই চলার পথ। জঙ্গলের মাথায় ক্লিং ক্লিং বাজিয়ে কে সাইকেল চালিয়ে গেলো! চমকে উঠলাম। আকাশে মোবাইলের রিংটোন! ঘাবড়ে গেছি। খুঁজছি- কে বা কারা? ফ্রুরররর...... রেফারির বাঁশি! ফাউল? নাকি গোওওওল!!! চোখের সামনে উড়ে গেলো, চোখ গেলো চোখ গেলো...। ভালো করে শুনতেই বুঝলাম, পাখিদের ডাক। জঙ্গলে জলসা বসেছে। জানা অজানা নানান সুরবাহার। কোথাও তানপুরা বাজছে, কোথাও বেহালা... সেতার নাকি! হঠাৎ গীটারে ঝংকার। ঝিঁ ঝিঁ পোকার একটানা সুর ব্যাকগ্রাউন্ডে। রাত্রির আবহ। অভ্যাগত অতিথি আমরা, বুঝি সংবর্ধনা বসেছে। জঙ্গলের নেশায় বুঁদ দাঁড়িয়ে গেছি। অজানা অচেনা শিল্পীদের খুঁজছি।

Read More

তিন ভুবনের পারে

এই তিন চারদিনের মজা খুনসুটি লেগপুল সব কিছুর পর এই একটা সময় এসে মন খারাপ হয়ে যায়। নদীর ঘাটের মতো এই জীবন। কত কত জায়গায় নৌকোর মতো কিছু লোক কয়েকটি দিন একসাথে কাটিয়ে যায়। আর হয়তো সারা জীবনে তাদের সাথে দেখা হবে না। শুধু মনে থেকে যাবে কয়েকটি দিনের এই স্মৃতি। কখনো একলা বসে সেই স্মৃতির এলবামের পাতা ওলটাতে ওলটাতে আরামসে ঘুরে আসা যাবে আসামের সেই জঙ্গলে কাটানো একসাথের দিনগুলোতে, যেখানে প্রকৃতির অপরূপ অফুরন্ত প্রাচুর্যের খুব সামান্যই দর্শন করার সুযোগ এসেছিল। আর শুধু মনে মনে ভাববো আর কি জীবনে এমন কোন দিন আসবে না যখন একটি মাত্র রাত হলেও কোথাও একসাথে কাটাতে পারবো আমরা?

Read More

জোড়াচুয়া’র দিনগুলি

কুলডিহা’ও পরিখা দিয়ে ঘেরা। পিছনে উঠে গেছে খাড়াই পাহাড়। সামনে সল্টপিট। এখানে সল্টপিট গুলোতে এবং জঙ্গলের বিভিন্ন স্থানে লাগানো আছে ক্যামেরা। আমরা দুজনে সল্টপিট টায় গেলাম, এবং সেখানে একটি গাছে পান্ডেই প্রথম আবিস্কার করল, অসংখ্য জায়েন্ট স্কুইরেল। কুলডিহা তে প্রচুর দেখা মিলবে এদের। আমরা কিছুটা জঙ্গলের অচেনা পথে ঢুকলাম। প্রতিপদে প্রচন্ড ভয় লাগছিল। এবং অনেকটা যাওয়ার পর হটাত কোন এক জন্তুর আওয়াজে, ভয় পেয়ে দ্রুত ফিরে আসি। এই অনুভূতি গুলো ভয়ংকর, অসাধারণ। কুলডিহায় চা খেয়ে আবার ফিরতি পথে দু একটি হরিণ পালিয়ে গেল, বন মুরগী উড়ে বেড়াচ্ছে, অনেক। গাড়ি দাঁড়াল। বিট অফিসার আমায় নিয়ে চললেন মূল রাস্তা থেকে জঙ্গলের ভিতরে ঢুকে যাওয়া একটি সুঁড়িপথে। নিশ্চুপ থাকার ইঙ্গিত। পা টিপে চলা। যে পথে পা ফেলছি সেখানে অসংখ্য প্রাণীর পায়ের চিহ্ন কাদায়, শুখনো মাটিয়ে শুখিয়ে আছে। আমি আর অফিসার চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছি, পাণ্ডে আর বাবুলি পিছনে আসছে। চারদিকে নানান শব্দ। তার মধ্যে একটি বিশেষ শব্দকে ইঙ্গিত করে উনি জানালেন এটি বাইসনের বাচ্চার শব্দ।

Read More

বনবাংলোয় সবুজ বৃষ্টিতে

এই ফরেস্ট রেঞ্জ এত বিপুল সম্ভারে ধনী, যতবারই যাই না কেন সে নতুন নতুন রূপে ধরা দ্যায়। কয়েকটা বন্য শুয়োর ঘোঁত ঘোঁত তাদের পৃথুল শরীর নিয়ে হেলেদুলে চলে গেল। আর তারপরই সেই কাণ্ড, যা ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক চ্যানেলেই একমাত্র দেখেছি। জলদাপাড়া রেঞ্জের বিখ্যাত একশৃঙ্গ গণ্ডারের দল আচমকাই এসে হাজির সেই সল্টলিকে। দলে একটা মা গণ্ডার, সঙ্গে তার প্রায় সদ্যজাত সন্তান। এমন সময় আরেকটা গণ্ডার সেই মা গণ্ডারটাকে অতর্কিতে আক্রমণ করে বসল। ঠিক মানুষের সমাজের মতোই, বাকিরা সরে পড়ল যে যার মতন। এদিকে দুটো গণ্ডার ফুঁসে ফুঁসে উঠছে, কিছুটা পিছিয়ে গিয়ে আবার তেড়ে আসছে, খড়্গ দিয়ে গুঁতো মারছে প্রবল, দুজনেই ক্ষতবিক্ষত, সার্চলাইটের ঐ তীব্র আলোকেও তারা পরোয়া করছে না, একসময় মনে হল ওরা যে কোনও মুহূর্তে নদী পেরিয়ে ধেয়ে আসতে পারে আমাদের দিকেও। সবাই দমবন্ধ করে দেখছে, এমনকী বাচ্চাগুলোও দুষ্টুমি ভুলে সব স্ট্যাচু হয়ে গ্যাছে।

Read More

বিস্ময়পুর

পরিকল্পনায় : সব্যসাচী হাজরা

সহযোগিতায় :

সমীরণ ঘোষ
প্রদীপ চক্রবর্তী
ঋতুপর্ণা বেরা হাজরা

'কোন্ গহন অরণ্যে তারে এলেম হারায়ে / কোন্ দূর জনমের কোন্ স্মৃতিবিস্মৃতি ছায়ে।।'- রবীন্দ্রনাথের গানের লাইন ভেতরে ভেতরে অনন্ত বিস্ময়ে আরো ঘন হয়ে এলো। সেই ছায়ানটের কাছে আমাদের ইন্দ্রিয় পাতা-ঝরার শিহরনে একটু একটু ক'রে আদিম শব্দ ও শব্দহীনতায় ফিরে গ্যালো ... ধরা-অধরার রহস্যে আমরা পৌঁছে গেলাম কবিতার কাছে।

'আরও বিস্ময় দাও' - কার কাছে চাই? প্রভু! কে সে? সে প্রশ্ন অধরা... তবুও জীবন ও প্রকৃতির বাকে, যে বাঁক-বিস্ময় অনাবিষ্কৃত তার খোঁজেই কেটে যায় জন্ম-মৃত্যুর আলিঙ্গন। রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন - 'অন্তবিহীন লীলা'-র কথা। যে নতুন পথ আমাদের দুর্নিবার আকর্ষণে টেনে নিয়ে যায়, তার মধ্যেই লুকিয়ে আছে চলার অপার রহস্য ও রোমাঞ্চ। জুড়ে আছে ফুটে ওঠা ও ঝ'রে পড়া, চেতনতাড়িত দৃশ্য, শব্দ, গন্ধ, স্পর্শ ও স্বাদ। ইন্দ্রিয় তখন বহির্জগতকে প্রবেশের পথ দ্যায়, অন্তর্জগত আলোকিত হয় সেই শিক্ষার অনাবিল উৎসবে। চোখ ও দৃষ্টি, কান ও শ্রুতি, নাক ও গন্ধ, ত্বক ও স্পর্শ, জিভ ও স্বাদ অনুভূতির সংযোগে নিজেকে প্রস্তুত করে, আর এই প্রস্তুতি চলতেই থাকে নতুনকে জানার আশায়। অনালোকিত এক পরিসর আলোকিত হয়, পরিত্যক্ত গলিও দ্যাখার গুণে কথা বলে, বুনোফুল দ্যায় অনিন্দ্যগ্যালারি। চলা হয়ে ওঠে পর্যটন। ভ্রমণ নিছক কাহিনী নয়, সে সাহিত্যও। আমাদের বিস্ময়পুরের উদ্দেশ্য সেই ভ্রমণসাহিত্যকে সামনে আনা।

প্রখ্যাত সাহিত্যিক ও পরিব্রাজক উমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়-এর লেখা 'কেদারনাথ - সেকাল ও একাল' - গদ্যের একটি লাইন মনে পড়ছে - 'পৃথিবী ঘোরে, বছরও ঘুরে আসে, আমিও ঘুরি।'।

Subscribe

Find Us On

Subscribe

Get the lastest news and updates from Bismoypur


সব্যসাচী হাজরা

Subscribe

Social widget